Wednesday, 11 March 2026

মুর্শীদের মধ্যে বারোটি গুণ থাকা আবশ্যক

লেখক: মওলানা মুহাম্মদ নিজামউদ্দীন


ইসলামের আধ্যাত্মিক শিক্ষায় মুর্শীদ বা পীরের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। একজন সত্যিকার মুর্শীদ শুধু বাহ্যিক জ্ঞানদাতা নন; বরং তিনি মানুষের আত্মশুদ্ধি, নৈতিক উন্নতি ও আল্লাহমুখী জীবনের পথপ্রদর্শক। এজন্যই ইসলামের মহান আধ্যাত্মিক সাধক শায়খ আবদুল কাদির জিলানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) মুর্শীদের জন্য কিছু অপরিহার্য গুণাবলীর কথা উল্লেখ করেছেন।


তিনি বলেন, কোনো শায়খের জন্য মানুষের মুর্শীদ হয়ে বসা বৈধ নয়, যতোক্ষণ না তার মধ্যে বারোটি গুণ বিদ্যমান থাকে। এই গুণগুলোর মধ্যে দুটি আল্লাহ তাআলার গুণের অনুসরণ, দুটি নবী করীম ﷺ-এর গুণ, এবং বাকি আটটি চার খলীফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-এর আদর্শ থেকে গ্রহণ করা।

প্রথমতঃ আল্লাহ তাআলার গুণ থেকে মুর্শীদের দুটি গুণ থাকা উচিত। একটি হলো পর্দাপোষ হওয়া, অর্থাৎ মানুষের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ না করা; বরং তা গোপন রাখা। অন্যটি হলো ক্ষমাশীল হওয়া, যাতে মানুষের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়া যায়।

দ্বিতীয়তঃ নবী করীম মুহাম্মদ ﷺ-এর আদর্শ থেকে দুটি গুণ গ্রহণ করা আবশ্যক। এগুলো হলো শফিকতা ও দয়া। একজন প্রকৃত মুর্শীদ মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ও দয়ালু হবেন, যেমন নবী করীম ﷺ উম্মতের প্রতি ছিলেন।

তৃতীয়তঃ প্রথম খলীফা হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর আদর্শ থেকে দুটি গুণ থাকা প্রয়োজন। একটি হলো সত্যবাদিতা, আর অন্যটি দানশীলতা। সত্যের ওপর অবিচল থাকা এবং আল্লাহর পথে দান-সদকা করা একজন আধ্যাত্মিক নেতার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

চতুর্থতঃ দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর ইবন আল-খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর আদর্শ থেকে দুটি গুণ গ্রহণ করা দরকার। এগুলো হলো সৎকাজের নির্দেশ দেওয়া এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা। সমাজকে ন্যায় ও সত্যের পথে পরিচালিত করার জন্য এই গুণ দুটি অপরিহার্য।

পঞ্চমতঃ তৃতীয় খলীফা উসমান ইবন আফফান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর আদর্শ থেকে দুটি গুণ থাকা উচিত। একটি হলো মানুষকে আহার করানো, অর্থাৎ উদারভাবে মানুষের সেবা করা। অন্যটি হলো রাতে ইবাদতে দাঁড়িয়ে থাকা, যখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তখন আল্লাহর সামনে ইবাদতে মগ্ন থাকা।

ষষ্ঠতঃ চতুর্থ খলীফা হযরত আলী ইবন আবী তালিব (কার্রামা-আল্লাহু ওয়াজহাহু)-এর আদর্শ থেকে দুটি গুণ থাকা আবশ্যক। এগুলো হলো ইলম বা জ্ঞান এবং সাহসিকতা। একজন মুর্শীদের জ্ঞানী হওয়ার পাশাপাশি সত্যের পক্ষে দৃঢ় ও সাহসী হওয়াও জরুরি।

সুতরাং দেখা যায়, একজন প্রকৃত মুর্শীদের চরিত্রে আল্লাহ তাআলার রহমত ও ক্ষমা, নবী করীম ﷺ-এর দয়া, এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, দানশীলতা, ইবাদতপ্রিয়তা, জ্ঞান ও সাহস—এই সব গুণের সমন্বয় থাকা উচিত। তখনই তিনি মানুষের জন্য প্রকৃত পথপ্রদর্শক হতে পারবেন।

📖 সূত্র: জিলাউল খাওয়াতির, পৃষ্ঠা ২০৩।

No comments:

Post a Comment