Wednesday, 2 September 2026

Seeking Help from the Pious Ones of Allah

-Admin


The issue of seeking help from the pious votaries of Allah is supported by the Islamic evidence. We'll provide overwhelming daleels, that is, documents in our book to be published elsewhere (on the Net). Here, we'll only discuss about such an event where recourse to the Sufi Gnostic/dervish/A'alim-Haqqaniyy was taken by none other than the Prophet Sulaiyman (Solomon) himself. 


The Koran states in Surah Naml, Ayahs 38-40, (In the name of Allah, the Most Gracious and the Most Merciful), Qaala yaa ayyuhaal-malauu ayyukum ya'tiniyy bi-a'rshihaa qabla ayyatu'niyy muslimiina; qaala 'ifriitum-minal jinni anaa aatiika bihii qabla a'n taquuma mim-maqaamika wa inniyy a'laiyhi laqawiyyun amiinun; qaala alladhiyy i'ndahuu i'lmum-minal kitaabi anaa aatiika bihii qabla ayyartadda ilaiyka tarfuka - falammaa ra'a-hu mustaqirraan i'ndahuu qaala haadhaa min fadli rabbiyy, meaning Prophet Sulaiyman said (to his own men): "Ye Chiefs! which of you can bring Queen (of Sheba) Bilqis' throne before they (i.e. the queen and her people) come to me in submission?" Said an Ifrit (large and powerful one) of the Jinns (genii): "I will bring it to thee before thou rise from thy Council; indeed I have full strength for the purpose, and may be trusted." Said one who had knowledge of the Book: "I will bring it to thee within the twinkling of an eye!" Then when Sulaiyman saw it (i.e. the throne) placed firmly before him, he said: "This is by the grace of my Lord!" 

According to the Koran, Prophet Sulaiyman wanted the queen Bilqis and her people to embrace the Islamic religion upon seeing a Divine Sign from the Prophet. So he made the above call to his own people. We can infer, from the story narrated by Allah, as follows:

1. Prophet Sulaiyman, though being a Prophet of Allah, sought help from his people - from the pious ones among his Ummah. The Prophet himself was a votary of Allah and could have asked Allah for the Sign himself, knowing fully well that his prayer wouldn't be turned down by his Lord, the Almighty. Moreover, as a Prophet, he too had the privileges of Divine Power. Yet, he asked for help from someone who was well-versed in the 'knowledge of the Book', and whose name was Asaf bin Barkhiya, the chief counsel at the Prophet's court. This person was spiritually enlightened and could work miracles (karaamat). 

2. Asaf bin Barkhiya brought the throne of queen Bilqis from Sheba in Yemen to Damascus in Syria, and that too, in the twinkling of an eye! In order to carry it for such a long distance, he had to be haadir (omnipresent) and naazir (able to see the throne from Damascus all the way to Yemen). It is also termed as tayy-i makaan in Arabic. This Koranic account bears testimony in favor of Sufi/dervishes' special powers granted by Allah Almighty.

3. The chief counsel at Prophet Sulaiyman's court is quoted in the Koran as saying, "I will bring it to thee within the twinkling of an eye." He didn't say that he would bring it if Allah granted him permission or the power; he said he would bring it 'within the twinkling of an eye'. Thus, it is crystal-clear that he knew the extent of his spiritual power. The Awliya or Sufi/dervishes know about the Divine Powers they possess.
 
4. The Ayah also grants us the permission to say that the Awliya, that is, the Sufi/dervishes can have ta'thir or effect on matters of the world and the hereafter. This is also termed as tasarruf in Arabic. In other words, they can work miracles. It is not shirk or polytheism to describe such Ahwal i.e. spiritual states of the Awliya; rather, it is compatible with the Sharia. And 

5. The Koranic verse pertains to Khabar, that is, narration of events, and henceforth, cannot be rescinded by any Hukm i.e. Law of the Sharia. In other words, the Koranic account of the event at the time of Prophet Sulaiyman stands throughout the prophet-hood of the last Prophet Hadrat Muhammad (sallallaahu alaiyhi wa sallam); meaning, till the End of the World.  

To conclude, asking the pious Anbiya (Prophets) and Awliya (Sufi/dervishes) to help us spiritually is a valid issue in the light of Islamic evidences. There are many proofs in the Koran and the Hadith (Sayings of the Prophet of Islam) that permit Muslims to have recourse to the pious ones of Allah. We have shed light on one of those here. May Allah grant all Muslims the foresight to accept this laudable act/deed in His view, Ameen! 

Wednesday, 11 March 2026

রাজ দরবারে সুন্নী-সূফী হক্কানী উলামা

 

- এডমিন।

সম্প্রতি দেশের ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এক ইফতার পার্টিতে বিভিন্ন ঘরানার আলেমকে দেখা গেলেও সুন্নী জামা’আতভুক্ত আলেমদেরকে দেখা না যাওয়াতে অনেকে ফেসবুকে দুঃখ ও আফসোস প্রকাশ করেছেন। আমি এ ব্যাপারে কিছু কথা বলতে চাই।

প্রথমতঃ বাংলাদেশের ইতিহাসে এ চিত্র নতুন নয়। বিগত ৮০’এর দশক থেকেই আমরা এটা প্রত্যক্ষ করে আসছি। ইসলামের ইতিহাসেও এটা নতুন নয়। যুগে যুগে 'উলামায়ে সূ' তথা বদ-আকীদাধারী, বে-আমল, সুবিধাবাদী, দুনিয়ালোভী, নাম-প্রত্যাশী ও দুর্নীতিগ্রস্ত আলেমবর্গ রাজ দরবারের কৃপাদৃষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ক্ষমতার আশপাশে ঘুরঘুর করেছে। এর বিপরীতে হক্কানী-রব্বানী (প্রকৃত খোদাপ্রেমিক) উলামা তথা আউলিয়া কেরাম (রহ.) রাজ দরবারকে এড়িয়ে চলেছেন। এটাই সুন্নী-সূফী মতাদর্শের ঐতিহ্য।

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে ইমাম গাজ্জালী (রহমতুল্লাহি আলাইহ)-এর কথা। তিনি বাগদাদের খলীফার দরবারে সর্বোচ্চ ধর্মীয় উপদেষ্টা পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। কিন্তু তিনি যখন দেখলেন যে খলীফা ইসলামী বিধানের পরিপন্থী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন, তখন তিনি কাজে ইস্তফা দিয়ে নিজ পল্লীতে ফিরে যান এবং গৃহস্থালী (সম্ভবতঃ জমিতে ফসল ফলানোর বা ব্যবসার) কাজে লিপ্ত হন। বুযূ্র্গ ইমাম-আল্লামাবৃন্দ দুৃনিয়ার তোয়াক্কা করতেন না। রাজ দরবারের কৃপাদৃষ্টি লাভের চেষ্টাই করতেন না।
দিল্লীর নিজামউদ্দীন আউলিয়া চিশ্তী (রহমতুল্লাহি আলাইহ)-এর ঘটনা আরো চমকপ্রদ। তিনি তাঁর আস্তানায় একটি মসজিদ নির্মাণ আরম্ভ করেন। ওই সময়কার বাদশাহ গিয়াসউদ্দীন তুঘলকও সম্ভবতঃ হিংসাবশতঃ রাজকীয় মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দিয়ে বাংলার শাসকের বিরুদ্ধে অভিযানে দিল্লী ত্যাগ করেন। কিন্তু ওই মসজিদ নির্মাণের জন্যে বেশি মজুরি দিয়েও লোকবল পাওয়া যায় নি। অথচ চিশ্তী সুলতানের (রহ.) মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে লোকেরা বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করছিলেন। এভাবেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। এদিকে, বাংলায় অভিযানশেষে বাদশাহ তুঘলুক যখন ফিরছিলেন, তখন চিশ্তী সুলতান (রহ.)-এর ওয়াকিফহাল মুরীদান তাঁদের পীর সাহেব কেবলা (রহ.)-এর প্রতি দিল্লী ত্যাগের আর্জি পেশ করেন এ কারণে যে, গিয়াসউদ্দীন তুঘলক ফিরে এলে মসজিদটিকে অনির্মিত দেখতে পেয়ে প্রতিহিংসামূলক জোর-জুলূম চালাতে পারেন। মুরীদানের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে চিশ্তী সুলতান (রহ.) পারসিক ভাষায় বলেন, ‘হনূজ দিল্লী দূর আস্ত’ (هنوز دهلی دور است)। মানে ’দিল্লী এখনো বহু দূরে।’ ওদিকে বাদশাহর পুত্র মুহাম্মদ বিন তুঘলক অভিযানে বিজয়ী পিতাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্যে দিল্লীর উপকণ্ঠে একটি ভারী তোরণ নির্মাণ করেন। কিন্তু বাদশাহ নিজ হাতীতে চড়ে ওই তোরণের নিচ দিয়ে পার হওয়ার সময় প্রাণিটি পাগল হয়ে যায় এবং তোরণের পায়ায় জোরে আঘাত করলে তাসের ঘরের মতো তোরণটি বাদশাহর মাথার উপর ভেঙ্গে পড়ে। ফলে তিনি সেখানেই নিহত হন। চিশ্তী সুলতান (রহ.) কখনোই বাদশাহর দরবারে যান নি।

ইমাম গাজ্জালী (রহমতুল্লাহি আলাইহ)-এরও এরকম একটি কারামত রয়েছে। মরক্কোর রাজা কতিপয় উলামায়ে সূ-এর কুপরামর্শে তাঁর বই পুড়িয়েছিলো। তাঁর কাছে এ খবর এলে তিনি হালত-অবস্থায় দোয়া করেন। তাঁর জাহেরী জীবদ্দশাতেই ওই বাদশাহ বংশসুদ্ধ নিপাত হয়!
এটাই ইতিহাস ও ঐতিহ্য সুন্নী-সূফী হক্কানী/রব্বানী উলামা তথা আউলিয়া কেরাম (রহ.)-এর। আমার মূল বক্তব্য হলো, তাঁদের প্রকৃত উত্তরসূরী হতে হলে তাঁদের মতো কুরবাত-এ-ইলাহী তথা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি হাসিল করতে হবে, যাতে দোয়ার তাৎক্ষণিক জবাব পাওয়া যায়; আর কাশফ-কারামত বা অলৌকিক ক্ষমতা-দিব্যদৃষ্টিও লাভ হয়। শুধু তখনই দেখা যাবে দেশের শাসকের পেছনে ঘুরাঘুরির পরিবর্তে শাসককুলই সুন্নী-সূফী হক্কানী/রব্বানী উলামা তথা আউলিয়ার দরবারে আসা-যাওয়া করছেন। বস্তুতঃ ওই সূফীদের যুগেই ইসলাম ধর্মের পরম বিকাশ ঘটেছিলো; সারা বিশ্বজগতে এর ব্যাপক প্রচার-প্রসার হয়েছিলো।

মুর্শীদের মধ্যে বারোটি গুণ থাকা আবশ্যক

লেখক: মওলানা মুহাম্মদ নিজামউদ্দীন


ইসলামের আধ্যাত্মিক শিক্ষায় মুর্শীদ বা পীরের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। একজন সত্যিকার মুর্শীদ শুধু বাহ্যিক জ্ঞানদাতা নন; বরং তিনি মানুষের আত্মশুদ্ধি, নৈতিক উন্নতি ও আল্লাহমুখী জীবনের পথপ্রদর্শক। এজন্যই ইসলামের মহান আধ্যাত্মিক সাধক শায়খ আবদুল কাদির জিলানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) মুর্শীদের জন্য কিছু অপরিহার্য গুণাবলীর কথা উল্লেখ করেছেন।


তিনি বলেন, কোনো শায়খের জন্য মানুষের মুর্শীদ হয়ে বসা বৈধ নয়, যতোক্ষণ না তার মধ্যে বারোটি গুণ বিদ্যমান থাকে। এই গুণগুলোর মধ্যে দুটি আল্লাহ তাআলার গুণের অনুসরণ, দুটি নবী করীম ﷺ-এর গুণ, এবং বাকি আটটি চার খলীফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-এর আদর্শ থেকে গ্রহণ করা।

প্রথমতঃ আল্লাহ তাআলার গুণ থেকে মুর্শীদের দুটি গুণ থাকা উচিত। একটি হলো পর্দাপোষ হওয়া, অর্থাৎ মানুষের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ না করা; বরং তা গোপন রাখা। অন্যটি হলো ক্ষমাশীল হওয়া, যাতে মানুষের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়া যায়।

দ্বিতীয়তঃ নবী করীম মুহাম্মদ ﷺ-এর আদর্শ থেকে দুটি গুণ গ্রহণ করা আবশ্যক। এগুলো হলো শফিকতা ও দয়া। একজন প্রকৃত মুর্শীদ মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ও দয়ালু হবেন, যেমন নবী করীম ﷺ উম্মতের প্রতি ছিলেন।

তৃতীয়তঃ প্রথম খলীফা হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর আদর্শ থেকে দুটি গুণ থাকা প্রয়োজন। একটি হলো সত্যবাদিতা, আর অন্যটি দানশীলতা। সত্যের ওপর অবিচল থাকা এবং আল্লাহর পথে দান-সদকা করা একজন আধ্যাত্মিক নেতার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

চতুর্থতঃ দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর ইবন আল-খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর আদর্শ থেকে দুটি গুণ গ্রহণ করা দরকার। এগুলো হলো সৎকাজের নির্দেশ দেওয়া এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা। সমাজকে ন্যায় ও সত্যের পথে পরিচালিত করার জন্য এই গুণ দুটি অপরিহার্য।

পঞ্চমতঃ তৃতীয় খলীফা উসমান ইবন আফফান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর আদর্শ থেকে দুটি গুণ থাকা উচিত। একটি হলো মানুষকে আহার করানো, অর্থাৎ উদারভাবে মানুষের সেবা করা। অন্যটি হলো রাতে ইবাদতে দাঁড়িয়ে থাকা, যখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তখন আল্লাহর সামনে ইবাদতে মগ্ন থাকা।

ষষ্ঠতঃ চতুর্থ খলীফা হযরত আলী ইবন আবী তালিব (কার্রামা-আল্লাহু ওয়াজহাহু)-এর আদর্শ থেকে দুটি গুণ থাকা আবশ্যক। এগুলো হলো ইলম বা জ্ঞান এবং সাহসিকতা। একজন মুর্শীদের জ্ঞানী হওয়ার পাশাপাশি সত্যের পক্ষে দৃঢ় ও সাহসী হওয়াও জরুরি।

সুতরাং দেখা যায়, একজন প্রকৃত মুর্শীদের চরিত্রে আল্লাহ তাআলার রহমত ও ক্ষমা, নবী করীম ﷺ-এর দয়া, এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, দানশীলতা, ইবাদতপ্রিয়তা, জ্ঞান ও সাহস—এই সব গুণের সমন্বয় থাকা উচিত। তখনই তিনি মানুষের জন্য প্রকৃত পথপ্রদর্শক হতে পারবেন।

📖 সূত্র: জিলাউল খাওয়াতির, পৃষ্ঠা ২০৩।

Saturday, 4 October 2025

বিভ্রান্তির জবাব

-মওলানা মুহাম্মদ নিজামউদ্দীন


চট্টগ্রাম।

 

ইমাম শে‌রে বাংলা (রহমাতুল্লা‌হি আলাইহ্) তাঁর 'দেওয়া‌নে আযীয'-এ হযরত কেবলা গাওসুল আযম মাইজভাণ্ডারী (রহমাতুল্লা‌হি আলাইহ্)সহ যাঁ‌দের‌কে গাওসুল আযম খেতা‌বে স‌ম্মোধন ক‌রে‌ছেন, তা বরহক ও স‌ঠিক। কারণ যে সমস্ত ওলীয়া‌য়ে কেরাম কুতু‌বিয়্যা‌তের মহান মর্যাদায় পৌঁ‌ছে‌ছেন, তাঁ‌দের বেলায়ও গাওস‌ুল আযম শব্দের এতলাক করা তরীক‌তের দৃ‌ষ্টি‌কো‌ণে জা‌য়েয। তাঁরা সবাই হুযূর গাওসুল আযম আবদুল কা‌দের জিলানী (রহমাতুল্লা‌হি আলাইহ্)এর না‌য়েব হি‌সে‌বে গাওসুল আযম। এটা হুযূর গাওসুল আযম আবদুল কা‌দের জিলানী (রহমাতুল্লা‌হি আলাইহ্) 'র গাওসিয়া‌তে কুবরাকে অস্বীকার করা নয়।


আমা‌দের জানা উ‌চিত, ইমাম শে‌রে বাংলা (রহমাতুল্লা‌হি আলাইহ্) তাঁর দেওয়া‌নে যাকে যে অ‌ভিধায় খেতাব ক‌রে‌ছেন, তা তি‌নি দে‌খেশু‌নেই ক‌রে‌ছেন। কারণ, তি‌নি শুধুমাত্র একজন উচুমা‌পের আ‌লেম বা আল্লামা ছি‌লেন তা নয়, বরং একজন আ‌রিফ‌বিল্লাহ ওলীও ছি‌লেন। এ প্রকার আ‌রিফ‌বিল্লারাই তাঁদের হাল ও মকাম সম্প‌র্কে অবগত থা‌কেন। যা সাধারণের প‌ক্ষে জানা অসম্ভব।


এসব আধ্য‌াত্মিক ‌বিষ‌য়ে ইমাম শে‌রে বাংলার মত আ‌রিফ‌বিল্লাদের কথাই আমা‌দের জন্য দলীল। এর বাই‌রে যাওয়া বেয়াদবী। এ বেয়াদবী বেঈমানীর প‌থে নি‌য়ে যায়। আল্লাহর পানাহ্।


মা‌সিক তরজুমা‌নে আমার প্রব‌ন্ধে আমা‌দের কোন মুসাল্লাম বুয‌র্গের গাও‌সিয়াত‌কে অস্বীকার করা হয় নি। এখা‌নে হুযূর আযম আবদুল কা‌দের জিলানীর মকাম ও মর্যাদা‌কে ইমাম আলা হযরতের রচনার আ‌লো‌কে তু‌লে ধরা হয়ে‌ছে। আর ইমাম আলা হযরতও তাঁর কোন নিজস্ব মত ব্যক্ত ক‌রেন‌নি, তি‌নিও পূর্ববর্তী শরীয়ত ও তরীক‌তের মহান ইমাম‌দের মতামত‌কে তু‌লে ধ‌রে‌ছেন মাত্র।


এ‌ বিষ‌য়ে আমার অনুদিত ও ২০১০ সা‌লে প্রকা‌শিত "গাওসুল আযম ও গাও‌সিয়াত" বই‌য়ের ভূ‌মিকায় আ‌রো বিস্ত‌ারিত আ‌লোচনা ক‌রে‌ছি। প্রয়োজ‌নে যেখা‌নে দেখা যে‌তে পা‌রে।




Tuesday, 30 September 2025

বড়পীর (রহ.)-এর গেয়ারভী শরীফ মাহফিলে শরীক হয়ে উপলব্ধি



-এডমিন

আজ হযরতে গাউছে পাক বড়পীর সাহেব কেবলা (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর বেসাল বার্ষিকী পালন উপলক্ষে এক মীলাদ মাহফিলে যোগ দিয়েছিলাম। এটা আসলে (চন্দ্র) মাসিক ফাতিহা। যাহোক, যিকর-আযকারের সময় আমার মনে একটা চিন্তার উদয় হয়। এখানে তা নিয়ে সংক্ষেপে আলোকপাত করছি।

আমার মনে হয়েছে, দ্বীন-ইসলামে বিশ্বাস পুরোপুরি আধ্যাত্মিকতার উপর নির্ভরশীল। বাহ্যিক শরঈ দলিলপত্র যা কিতাবসমূহে লেখা হয়েছে, তা ওই আধ্যাত্মিকতাকে সমর্থন দেয়ার খাতিরেই লিপিবদ্ধ। কেননা, এ ধর্মপ্রচার প্রথম আরম্ভ করেন প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তাঁকে দেখেই মানুষ ধর্মান্তরিত হতে থাকেন। মানে তাঁর মধ্যে বিরাজমান আধ্যাত্মিকতা ও ঐশী ক্ষমতা দেখতে পেয়ে তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁদের প্রত্যক্ষকৃত ঘটনার অভিজ্ঞতা এরপর বইপত্রে লিপিবদ্ধ বা রেকর্ড হয়। অতএব, ধর্মপ্রচারকের সত্তা মুবারকে নিহিত ঐশী/আধ্যাত্মিক প্রভাব এক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এ প্রভাব আল্লাহতায়ালার নৈকট্যজনিত, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই।
একইভাবে, গাউছে পাক বড়পীর সাহেব কেবলা (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-ও বিশাল আধ্যাত্মিক ক্ষমতাধর সূফী-শাইখ হিসেবে সাধারণ মানুষের মাঝে সুগভীর প্রভাব বিস্তার করেন। তাঁকে দেখেই তাঁরা বুঝতে পারেন যে তিনি আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ওলী/বন্ধু। সুতরাং তাঁরা দলে দলে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন (মানে মুরীদ হন)। আজমীর শরীফের গরীবে নওয়াজ হযরতে খাজায়ে মুঈনউদ্দীন চিশ্তী (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-ও তাঁর এলাকার মানুষের মনে একই রকম প্রভাব ফেলেন। আউলিয়া কেরাম (রহ.) যুগে যুগে এভাবেই সর্বসাধারণকে পথের দিশা দিয়েছেন, যা তাঁদের জীবনী রচয়িতাবৃন্দ বইপত্রে লিপিবদ্ধ করেছেন।

এক্ষণে জ্বলন্ত প্রশ্নটি হলো, পুণ্যাত্মা ধর্মপ্রচারকদের সত্তা মুবারকের প্রতি বিশ্বাস আগে, না বইপত্রের দলিলাদি আগে? আমার মনে হয়েছে, কলেমা-আকায়েদ, ফেক্বাহ, হাদীস, তাসাউফ ইত্যাদি শাস্ত্রের অধ্যয়ন জারি রেখেই স্বীকার করতে হবে যে আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ধর্মপ্রচারকদের সত্তা মুবারকের সোহবত/সান্নিধ্য এক্ষত্রে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়। দলিলগুলো শুধু মানুষকে সহজভাবে বোঝাবার খাতিরেই। নতুবা বিশ্বাস বিনা দলিলে প্রতিষ্ঠিত হওয়া চাই। ব্যক্তিগত জীবনে সংঘটিত ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকেই তা উৎসারিত। বস্তুতঃ আউলিয়া (রহ.)-এর উপস্থিতি ছাড়া ধর্মের প্রচার-প্রসার অবান্তর, বিশেষ করে বর্তমান যুগে বাতিলপন্থীদের দৌরাত্ম্য যেখানে সাধারণ মানুষকে দিশেহারা করে দিচ্ছে! কেননা তাদের কিতাবী ধর্মচর্চা তো মানুষকে ঐশী আলোর/নূরের দিশা দিচ্ছে না।
আমি সংক্ষেপে আমার উপলব্ধি এখানে ব্যক্ত করলাম। ইসলামী শরীয়তের দলিলাদিকে গৌণ করা আমার উদ্দেশ্য নয়। তা চর্চা বাধ্যতামূলক। তবে আমি মনে করি, এসব দলিল বুঝতে প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর সাহাবা কেরাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) ও আউলিয়া এজাম (রহমতুল্লাহি আলাইহিম)-বৃন্দের আধ্যাত্মিক সুনজর একান্ত জরুরি। নইলে বিভ্রান্তি গ্রাস করবে।

আল্লাহ আমাদেরকে উপলব্ধি করার তৌফীক দিন, আমীন।

*সমাপ্ত*

Sunday, 27 July 2025

পুণ্যাত্মাবৃন্দের মাযার স্থানান্তর প্রসঙ্গে মালয়েশীয় প্রধান সরকারি মুফতীর ফতোয়া

 

-এডমিন

এই শরঈ বিষয়টি বড়ই তত্ত্বগত ও সূক্ষ্ম। মুহাক্কেক উলামাবৃন্দ কর্তৃক বিবেচ্য। আমি মালয়েশিয়ার সরকারি মুফতী সাহেবের ফতোয়া অনলাইনে পেয়ে তা এখানে শেয়ার করলাম। তাঁর ফতোয়ার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:

১/ বিনা কারণে বা প্রয়োজনে এ কাজ করা না-জায়েয/অবৈধ।

২/ জায়েয হবে জরুরি পরিস্থিতিতে - যেমন, পানিতে ডুবে গেলে, মাটি ধ্বস, অসম্মান হবার আশঙ্কা ইত্যাদিতে। [মুগনী আল-মুহতাজ, ১/৪৯৬; বুসায়রা আল-করীম, ২/৩৯; এবং সাবিল আল-মুহতাদিন ৮৫]

৩/ সাহাবায়ে কেরাম (রা.) তাঁদের শহীদানের মাযার স্থানান্তর করেছেন পানিতে ভেজার কারণে।

৪/ আবূ আবদুল্লাহ আল-জুবাইরীর মতামত, যা’তে তিনি বলেছেন যে কবর যদি জলপ্রবাহের পথে, সেচের পথে থাকে অথবা মাটি স্যাঁতসেঁতে থাকে তবে স্থানান্তর করা জায়েয, তার উপর মন্তব্য করতে গিয়ে ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন:
قول الزُبيرِي أَصحُ فقدْ ثبتَ فِي صحيحِ البخارِي عَن جابرِ بن عبدِ الله رَضِى الله عنهما أنهُ دَفنَ أباهُ يومَ أحدٍ معَ رجلٍ آخرٍ في قبرٍ قالَ ثُمَّ لَمْ تَطِبْ نفسِي إن أتركَهُ مع آخرٍ فاستخرجتُهُ بعدَ ستةٍ أشهرٍ فَإِذَا هوَ كَيومٍ وضعتُهُ هُيئةٍ غيرَ اذنِهِ وفِى روايةٍ للبخارِي أيضًا اخرجتُهُ فجعلتُهُ فيِ قبرٍ علي حدةٍ وذكرَ ابنٌ قتيبةَ فِي المعارفِ وغيرِهِ ان طلحةَ بن عبدِ اللهِ أحد العشرةَ رضي الله عنهُمْ دُفنَ فرأتْهٌ بنتُهُ عائشةٌ بعدَ دفنِهِ بثلاثينَ سنةً فِي المنامِ فشكَا إليهَا النَزَّ فأمرتْ بِهِ فاستخرجَ طريًّا فدُفنَ فَي دارِهِ بالبصرةِ.

অর্থ: “আল-জুবাইরীর মতামত সবচেয়ে শক্তিশালী; এই বিষয়ে বুখারীতে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদীস থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়, যেখানে উহুদ যুদ্ধের সময় তাঁর বাবাকে একই কবরে আরও দুজন ব্যক্তির সাথে দাফন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “তাঁকে অন্যদের সাথে দাফন করতে দিতে আমার অস্বস্তি হচ্ছিল, তারপর ছয় মাস পর আমি তাঁকে কবর থেকে বের করে আনলাম। আমি অবাক হয়ে দেখলাম যে তাঁর অবস্থা যখন তাঁকে দাফন করা হয়েছিল তখনকার মতোই, তাঁর কান ছাড়া।” (ইমাম আল-বুখারীর আরেকটি বর্ণনায় এসেছে), ”আমি তাঁকে কবর থেকে বের করে তাঁর নিজের কবরে স্থানান্তরিত করেছি।” আল-মা’আরিফ গ্রন্থে ইবনু কুতাইবা এবং অন্যান্যরা বলেছেন, "হযরত আবূ তালহা বিন কুতাইবা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা (দশজন সাহাবীর মধ্যে একজন যাঁদের জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে)-কে দাফন করা হয়েছিলো ত্রিশ বছর আগে। তারপর একদিন তাঁর মেয়ে আয়েশা একটি স্বপ্ন দেখেন, যেখানে তিনি হযরত তালহা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-কে অভিযোগ করতে দেখেন যে তাঁর মাযার স্থির থাকা পানিতে ভরা। পরে আয়েশা তাঁর বাবার জিসম মুবারক মাযার থেকে বের করে আনলেন, আর জিসম মুবারক তখনও ভালো অবস্থায় ছিল এবং তারপর বসরায় তাঁর নিজের শহরে দাফন করা হলো।” [ইমাম আন্-নববী (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর কৃত আল-মজমুআ’ ৫/২৭৩ দেখুন]
ছবি: ইমাম নববী (রহ.)-এর মাযার শরীফ, নওয়া শহর, দারা অঞ্চল, সিরিয়া:



Friday, 25 July 2025

সুন্নীয়ত প্রচার ও রাফেযী বদ-নজর/বান-টোনা


- এডমিন

দ্বীনী (ফেসবুক) বন্ধুরা, জি, উপরের শিরোনামটি সঠিক পড়েছেন। আমাদের মুফতী মওলানা শহিদুল্লাহ বাহাদুর ভাই সুন্নীয়ত প্রচারে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। তিনি আমীরে মু’য়াবিয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর পক্ষে একটি চমৎকার বই লিখেছেন। কিন্তু এর জন্যে তিনি রাফেযী বদ-নজরে পড়েছেন। বান-টোনা (voodoo/black magic) রাফেযীচক্র চর্চা করে থাকে - এটা আমি জানি নিশ্চিত। অনেক দরবারিও এতে জড়িত। তবে তাদেরকে চিহ্নিত করার কোনো প্রয়োজন মনে করি না।
আমিও রাফেযী গোষ্ঠীর আক্রমণ থেকে মুক্ত নই। অর্থাৎ এসব কুফরী কালাম চালাচালি হচ্ছে। কিন্তু আমি ভয় পাই না। কেননা আমার প্রতিরক্ষা ব্যূহ আমারই পীর ও মুর্শীদ কেবলা (রহমতুল্লাহি আলাইহি)। বুমেরাংয়ের মতো প্রত্যাঘাতপ্রাপ্ত হবে! অতএব, সাবধান! তবে সুন্নীয়ত প্রচারে যাঁরা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাঁদেরকে বলবো নিচের দোয়াটি ঘনঘন পাঠ করতে - لاَ حَولَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ لاَ مَنْجَأ وَلاَ مَنْجَأ مِنَ اللهِ إِلاَّ إِلَيْهِ - অর্থ: "আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (কোনো) অবলম্বন নেই, কোনোরূপ শক্তি নেই, যিনি সমুন্নত, মহান। আল্লাহ ছাড়া আর কোনো আশ্রয়স্থল বা মুক্তির পথ নেই।”
আমার দাদাপীর সাহেব কেবলা (রহমতুল্লাহি আলাইহি) ১৯৭৫ সালে একটি ওয়াজে বলেছিলেন, “যাদু সত্য, বদ-নজরও সত্য; জীবিত মানুষকে কবরে পৌঁছে দেয়।” অতএব, আমি তাঁরই শরণাপন্ন হলাম, যাতে তিনি আমাকে সুরক্ষিত রাখেন, আমীন।